ঢাকা, শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

ইসলামাবাদ যাবেন মার্কিন আলোচকরা, বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলছে ইরান

ads

মার্কিন আলোচকদের শনিবার পাকিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে কিন্তু ইরান বলছে, তাদের কর্মকর্তাদের যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আমেরিকানদের সঙ্গে বৈঠক করার কোনো পরিকল্পনা নেই। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে কথা বলার জন্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের শনিবার সকালে (ওয়াশিংটন ডিসির সময়) রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ভালো একটি চুক্তি করার’ সুযোগ রয়েছে।


তিনি বলেন, “ইরান জানে, বিচক্ষণতার সঙ্গে বেছে নেওয়ার জন্য তাদের সামনে এখনও একটি খোলা জানালা রয়েছে। তাদের যা করতে হবে তা হল অর্থপূর্ণ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগ করা।”


আরাকচি শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্স এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করেননি আর তেহরানের উদ্বেগগুলো মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে জানানো হবে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের এই জলপথটি বন্ধ থাকায় ও ইরানি নৌবন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করে রাখায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ব্যয়বহুল অচলাবস্থার মধ্যে আছে। নবম সপ্তাহে প্রবেশ করা ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম অনেক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে, এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে আর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ম্লান হচ্ছে।


শুক্রবার ট্রাম্প রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো পূরণ করার জন্য ইরান একটি প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, তবে প্রস্তাবটিতে কী আছে তা তার জানা নেই। ওয়াশিংটন কার সঙ্গে আলোচনা করছে তা জানাতে রাজি হননি তিনি। শুধু বলেছেন, “আমরা তাদের সঙ্গেই আলোচনা করছি যারা এখন দায়িত্বে আছেন।”


হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইরানি পক্ষের দিক থেকে কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র আর এই সপ্তাহান্তে আরও অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছেন।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি এক্স এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তানের পর ওমান ও রাশিয়া সফরে যাবেন। শুক্রবার ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আরাকচি। এই হোটেলেই মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম সরাসরি শান্তি বৈঠকটি হয়েছিল। পাকিস্তানের সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, মার্কিন লজিস্টিক ও নিরাপত্তা দলগুলো ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদে অবস্থান করছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page